আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না ।
এই জানারই সঙ্গে সঙ্গে তোমায় চেনা ।।
কত জনম-মরণেতে তোমারি ওই চরণেতে,
আপনাকে যে দেব, তবু বাড়বে দেনা ।।
আমারে যে নামতে হবে ঘাটে ঘাটে,
বারে বারে এই ভুবনের প্রাণের হাটে ।
ব্যবসা মোরে তোমার সাথে চলবে বেড়ে দিনে রাতে,
আপনা নিয়ে করব যতই বেচা কেনা ।।
Thursday, 14 December 2017
আপনাকে এই জানা
আপনহারা মাতোয়ারা আছি
আপনহারা মাতোয়ারা আছি তোমার আশা ধরে-
ওগো সাকী, দেবে না কি পেয়ালা মোর ভ'রে ভ'রে ।।
রসের ধারা সুধায় ছাঁকা, মৃগনাভির আভাস মাখা,
বাতাস বেয়ে সুবাস তারি দূরের থেকে মাতায় মোরে ।।
মুখ তুলে চাও ওগো প্রিয়ে- তোমার হাতের প্রসাদ দিয়ে
এক রজনীর মতো এবার দাও-না আমায় অমর ক'রে ।
নন্দননিকুঞ্জশাখে অনেক কুসুম ফুটে থাকে-
এমন মোহন রূপ দেখি নাই, গন্ধ এমন কোথায় ওরে ।।
আপন হতে বাহির হয়ে
আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া,
বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া ।।
এই-যে বিপুল ঢেউ লেগেছে তোর মাঝেতে উঠুক নেচে,
সকল পরান দিক-না নাড়া ।।
বোস্-না ভ্রমর, এই নীলিমায় আসন লয়ে
অরুণ-আলোর স্বর্ণরেণু-মাখা হয়ে ।
যেখানেতে অগাধ ছুটি মেল্ সেথা তোর ডানাদুটি
সবার মাঝে পাবি ছাড়া ।।
আন্মনা, আন্মনা,
আন্মনা, আন্মনা,
তোমার কাছে আমার বাণীর মাল্যখানি আনব না ।।
বার্তা আমার ব্যর্থ হবে, সত্য আমার বুঝবে কবে,
তোমারো মন জানব না,
আন্মনা, আন্মনা ।।
লগ্ন যদি হয় অনুকূল মৌনমধুর সাঁঝে,
নয়ন তোমার মগ্ন যখন ম্লান আলোর মাঝে,
দেব তোমায় শান্ত সুরের সান্ত্বনা ।।
ছন্দে গাঁথা বাণী তখন পড়ব তোমার কানে
মন্দ মৃদুল তানে,
ঝিল্লি যেমন শালের বনে নিদ্রানীরব রাতে
অন্ধকারের জপের মালায় একটানা সুর গাঁথে,
একলা তোমার বিজন প্রাণের প্রাঙ্গণে
প্রান্তে বসে একমনে
এঁকে যাব আমার গানের আল্পনা,
আন্মনা, আন্মনা ।।
আন্ গো তোরা কার কী আছে
আন্ গো তোরা কার কী আছে,
দেবার হাওয়া বইল দিকে দিগন্তরে-
এই সুসময় ফুরায় পাছে ।।
কুঞ্জবনের অঞ্জলি যে ছাপিয়ে পড়ে,
পলাশকানন ধৈর্য হারায় রঙের ঝড়ে,
বেণুর শাখা তালে তালে মাতাল পাতার নাচে ।।
প্রজাপতি রঙ ভাসালো নীলাম্বরে,
মৌমাছিরা ধ্বনি উড়ায় বাতাস- 'পরে ।
দখিন-হাওয়া হেঁকে বেড়ায় 'জাগো জাগো,'
দোয়েল কোয়েল গানের বিরাম জানে না গো-
রক্ত রঙের জাগল প্রলাপ অশোক-গাছে ।।
আনন্দেরই সাগর হতে এসেছে
আনন্দেরই সাগর হতে এসেছে আজ বান
দাঁড় ধ'রে আজ বোস্ রে সবাই, টান্ রে সবাই টান্ ।।
বোঝা যত বোঝাই করি করব রে পার দুখের তরী,
ঢেউয়ের 'পরে ধরব পাড়ি- যায় যদি যাক প্রাণ ।।
কে ডাকে রে পিছন হতে, কে করে রে মানা,
ভয়ের কথা কে বলে আজ- ভয় আছে সব জানা ।
কোন্ শাপে কোন্ গ্রহের দোষে সুখের ডাঙায় থাকবো বসে ।
পালের রশি ধরব কষি, চলব গেয়ে গান ।।
আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে
আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে
বিরাজ', সত্যসুন্দর ।।
মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগনমাঝে,
বিশ্বজগত মণিভূষণ বেষ্টিত চরণে ।।
গ্রহতারক চন্দ্রতপন ব্যাকুল দ্রুত বেগে
করিছে পান, করিছে স্নান, অক্ষয় কিরণে ।।
ধরণী'পর ঝরে নির্ঝর, মোহন মধু শোভা
ফুলপল্লব-গীতগন্ধ সুন্দর-বরনে ।।
বহে জীবন রজনী দিন চিরনূতনধারা,
করুণা তব অবিশ্রাম জনমে মরণে ।।
স্নেহ প্রেম দয়া ভক্তি কোমল করে প্রাণ,
কত সান্তন করো বর্ষণ সন্তাহরণে ।।
জগতে তব কি মহোত্সব, বন্দন করে বিশ্ব
শ্রীসম্পদ ভূমাস্পদ নির্ভরশরণে ।।
Wednesday, 13 December 2017
আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে
আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে ।
কে আছ জাগিয়া পুরবে চাহিয়া,
বলো 'উঠ উঠ' সঘনে গভীরনিদ্রামগনে ।।
হেরো তিমিররজনী যায় ওই, হাসে উষা নব জ্যোতির্ময়ী-
নব আনন্দে, নব জীবনে,
ফুল্ল কুসুমে, মধুর পবনে, বিহগকলকূজনে ।।
হেরো আশার আলোকে জাগে শুকতারা উদয়-অচল-পথে,
কিরণকিরীটে তরুণ তপন উঠিছে অরুণরথে-
চলো যাই কাজে মানবসমাজে, চলো বাহিরিয়া জগতের মাঝে-
থেকো না অলস শয়নে, থেকো না মগন স্বপনে ।।
যায় লাজ ত্রাস, আলস বিলাস কুহক মোহ যায় ।
ওই দূর হয় শোক সংশয় দুঃখ স্বপনপ্রায় ।
ফেলো জীর্ণ চীর, পরো নব সাজ, আরম্ভ করে জীবনের কাজ-
সরল সবল আনন্দমনে, অমল অটল জীবনে ।।
আনন্দগান উঠুক তবে বাজি
আনন্দগান উঠুক তবে বাজি
এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে ।
অশ্রুজলের ঢেউয়ের 'পরে আজি
পারের তরী থাকুক ভাসিতে ।।
যাবার হাওয়া ওই-যে উঠেছে, ওগো,ওই-যে উঠেছে,
সারারাত্রি চক্ষে আমার ঘুম যে ছুটেছে ।
হৃদয় আমার উঠছে দুলে দুলে
অকূল জলের অট্টহাসিতে-
কে গো তুমি দাও দেখি তান তুলে
এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে ।।
হে অজানা, অজানা সুর নব
বাজাও আমার ব্যথার বাঁশিতে,
হঠাৎ এবার উজান হাওয়ায় তব
পারের তরী থাক্-না ভাসিতে ।
কোনো কালে হয় নি যারে দেখা, ওগো, তারি বিরহে
এমন করে ডাক দিয়েছে, ঘরে কে রহে !
বাসার আশা গিয়েছে মোর ঘুরে,
ঝাঁপ দিয়েছি আকাশরাশিতে ।
পাগল, তোমার সৃষ্টিছাড়া সুরে
তান দিয়ো মোর ব্যথার বাঁশিতে ।।
আনন্দ রয়েছে জাগি ভুবনে
আনন্দ রয়েছে জাগি ভুবনে তোমার
তুমি সদা নিকটে আছ ব'লে ।।
স্তব্ধঅবাক নীলাম্বরে রবি শশী তারা
গাঁথিছে হে শুভ্র কিরণমালা ।।
বিশ্বপরিবার তোমার ফেরে সুখে আকাশে,
তোমার ক্রোড় প্রসারিত ব্যোমে ব্যোমে ।
আমি দীন সন্তান আছি সেই তব আশ্রয়ে
তব স্নেহমুখপানে চাহি চিরদিন ।।
আনন্দ তুমি স্বামি
আনন্দ তুমি স্বামি, মঙ্গল তুমি,
তুমি হে মহাসুন্দর, জীবননাথ ।।
শোকে দুখে তোমারি বাণী জাগরণ দিবে আনি,
নাশিবে দারুন অবসাদ ।।
চিত মন অর্পিনু তব পদপ্রান্তে-
শুভ্র শান্তিশতদল-পুণ্যমধু-পানে
চাহি আছে সেবক, তব সুদৃষ্টিপাতে
কবে হবে এ দুখরাত প্রভাত ।।
আধেক ঘুমে নয়ন চুমে
আধেক ঘুমে নয়ন চুমে স্বপন দিয়ে যায়।
শ্রান্ত ভালে যুথীর মালে পরশে মৃদু বায়।।
বনের ছায়া মনের সাথি, বাসনা নাহি কিছু-
পথের ধারে আসন পাতি, না চাহি ফিরে পিছু-
বেণুর পাতা মিশায় গাথা নীরব ভাবনায়।।
মেঘের খেলা গগনতটে অল্স লিপি-লিখা,
সুদূর কোন্ শ্মরণপটে জাগিল মরীচিকা।
চৈত্রদিনে তপ্ত বেলা তৃণ-আঁচল পেতে
শূন্যতলে গন্ধ-ভেলা ভাসায় বাতাসেতে-
কপোত ডাকে মধুকশাখে বিজন বেদনায়।।
আধাঁর রজনী পোহালো
আধাঁর রজনী পোহালো, জগত পূরিল পুলকে ।
বিমল প্রভাতকিরণে মিলিল দ্যুলোক ভূলোকে ।।
জগত নয়ন তুলিয়া হৃদয়দ্বার খুলিয়া
হেরিছে হৃদয়নাথেরে আপন হৃদয়-আলোকে ।।
প্রেমমুখহাসি তাঁহারি পড়িছে ধরার আননে-
কুসুম বিকশি উঠিছে, সমীর বহিছে কাননে ।
সুধীরে আঁধার টুটিছে, দশ দিক ফুটে উঠিছে-
জননীর কোলে যেন রে জাগিছে বালিকা বালকে ।।
জগত যে দিকে চাহিছে সে দিকে দেখিনু চাহিয়া,
হেরি সে অসীম মাধুরী হৃদয় উঠিছে গাহিয়া ।
নবীন আলোকে ভাতিছে, নবীন আশায় মাতিছে,
নবীন জীবন লভিয়া জয়-জয় উঠে ত্রিলোকে
আজি বিজন ঘরে নিশীথরাতে
আজি বিজন ঘরে নিশীথরাতে আসবে যদি শূন্য হাতে -
আমি তাইতে কি ভয় মানি !
জানি জানি, বন্ধু, জানি -
তোমার আছে তো হাতখানি ।।
চাওয়া-পাওয়ার পথে পথে দিন কেটেছে কোনোমতে,
এখন সময় হল তোমার কাছে আপনাকে দিই আনি ।
জানি জানি, বন্ধু, জানি -
তোমার আছে তো হাতখানি ।।
আঁধার থাকুক দিকে দিকে আকাশ-অন্ধ-করা,
তোমার পরশ থাকুক আমার-হৃদয়-ভরা ।
জীবনদোলায় দুলে দুলে আপনারে ছিলেম ভুলে,
এখন জীবন মরণ দু দিক দিয়ে নেবে আমায় টানি ।
জানি জানি, বন্ধু, জানি -
তোমার আছে তো হাতখানি ।।
Tuesday, 12 December 2017
আজি হেরি সংসার অমৃতময়
আজি হেরি সংসার অমৃতময়।
মধুর পবন, বিমল কিরণ, ফুল্ল বন,
মধুর বিহগকলধ্বনি।।
কোথা হতে বহিল সহসা প্রাণভরা প্রেমহিল্লোল, আহা-
হৃদয়কুসুম উঠিল ফুটি পুলকভরে।।
অতি আশ্চর্য দেখো সবে- দীনহীন ক্ষুদ্র হৃদয়মাঝে
অসীম জগতস্বামী বিরাজে সুন্দর শোভন!
ধন্য এই মানবজীবন, ধন্য বিশ্বজগত,
ধন্য তাঁর প্রেম, তিনি ধন্য ধন্য।।
আজি মম জীবনে নামিছে ধীরে
আজি মম জীবনে নামিছে ধীরে
ঘন রজনী নীরবে নিবিড়গম্ভীরে।।
জাগো আজি জাগো, জাগো রে তাঁরে লয়ে
প্রেমঘন হৃদয়মন্দিরে।।
আজিকে এই সকালবেলাতে
আজিকে এই সকালবেলাতে
বসে আছি আমার প্রাণের সুরটি মেলাতে।।
আকাশে ওই অরুণ রাগে মধুর তান করুণ লাগে,
বাতাস মাতে আলোছায়ায় মায়ার খেলাতে।।
নীলিমা এই নিলীন হল আমার চেতনায়।
সোনার আভা জড়িয়ে গেল মনের কামনায়।
লোকান্তরের ও পার হতে কে উদাসী বায়ুর স্রোতে।।
ভেসে বেড়ায় দিগন্তে ওই মেঘের ভেলাতে।।
আজি হেরি সংসার অমৃতময়
আজি হেরি সংসার অমৃতময়।
মধুর পবন, বিমল কিরণ, ফুল্ল বন,
মধুর বিহগকলধ্বনি।।
কোথা হতে বহিল সহসা প্রাণভরা প্রেমহিল্লোল, আহা-
হৃদয়কুসুম উঠিল ফুটি পুলকভরে।।
অতি আশ্চর্য দেখো সবে- দীনহীন ক্ষুদ্র হৃদয়মাঝে
অসীম জগতস্বামী বিরাজে সুন্দর শোভন!
ধন্য এই মানবজীবন, ধন্য বিশ্বজগত,
ধন্য তাঁর প্রেম, তিনি ধন্য ধন্য।।
আজি হৃদয় আমার যায় যে ভেসে
আজি হৃদয় আমার যায় যে ভেসে
যার পায় নি দেখা তার উদ্দেশে ।।
বাঁধন ভোলে, হাওয়ায় দোলে, যায় সে বাদল-মেঘের কোলে রে
কোন্-সে অসম্ভবের দেশে ।।
সেথায় বিজন সাগরকূলে
শ্রাবণ ঘনায় শৈলমূলে ।
রাজার পুরে তমালগাছে নূপুর শুনে ময়ূর নাচে রে
সুদূর তেপান্তরের শেষে ।।
আজি সাঁঝের যমুনায় গো
আজি সাঁঝের যমুনায় গো
তরুণ চাঁদের কিরণতরী কোথায় ভেসে যায় গো ।।
তারি সুদূর সারিগানে বিদায়স্মৃতি জাগায় প্রাণে
সেই-যে দুটি উতল আঁখি উছল করুণায় গো ।।
আজ মনে মোর যে সুর বাজে কেউ তা শোনে নাই কি ।
একলা প্রাণের কথা নিয়ে একলা এ দিন যায় কি ।
যায় যাবে, সে ফিরে ফিরে লুকিয়ে তুলে নেয় নি কি রে
আমার পরম বেদনখানি আপন বেদনায় গো ।।
New Post
Mele chaliyan
Mele chaliyan te leke aave chudiyan - 2 vich bava vich hon channa puriyan - 2 hoye ke leja mera guth milke - 2 Ho mele chaliy...
Popular Posts
-
চল বলে ফেলি কত কথাকলি জন্মেছে বলতে তোমায় তোমাকে চাই।। ঝলসানো রাতের এ পোড়া বরাতে তুমি আমার অন্ধকার আর রোশনাই।। কার্নিশে আলতা...
-
ঠান্ডা দু চোখ, অগোছালো চুল জোটানো মুরোদ, ছাই চাপা ভুল হাওয়াই চটির, ভেজা ভেজা চাপ জানে… আঁকার খাতা, জুতোর ফিতে দরজার খিল, হারে...
-
মাফিয়া মিডিয়া, রাজা ধিরাজ পা চাটছে সুশিল সমাজ... প্রেত আত্মার পেটেন্ট নেওয়া পচা কবর, ভুল খবর, পবিত্র ভোর... মাফিয়া মিডিয়া, রাজা ধিরাজ প...