Showing posts with label Nazrul Sangeet. Show all posts
Showing posts with label Nazrul Sangeet. Show all posts

Saturday, 16 December 2017

তেপান্তরের মাঠে

শিরোনামঃ তেপান্তরের মাঠে
নজরুল গীতি


তেপান্তরের মাঠে বধু হে
একা বসে থাকি
তুমি যে পথ দিয়ে গেছ চলি
তারি ধুলা মাখি হে
একা বসে থাকি


যেমন পা ফেলেছো গিরিপথে
রাঙা পথের ধুলাতে
তেমনি করে আমার বুকে
চরণ যদি বুলাতে
আমি খানিক জ্বালা ভুলতাম
ঐ মানিক বুকে রাখি হে
একা বসে থাকি


আমার খাওয়া-পরায় নাই রুচি আর
ঘুম আসেনা চোখে
ঘুম আসেনা চোখে
আমি বাউরি হয়ে বেড়াই পথে
দেখে হাসে পাড়ার লোকে
হাসে পাড়ার লোকে
আমি তালপুকুরে যেতে নারি
এ কি তোমার মায়া হে
ঐ কালো জলে দেখি
তোমার কালো রুপের ছায়া হে
আমায় কলঙ্কিনি নাম রটিয়ে
তুমি দিলে ফাঁকি হে
একা বসে থাকি


তেপান্তরের মাঠে বধু হে
একা বসে থাকি
একা বসে থাকি
একা বসে থাকি


শাওন রাতে যদি

শিরোনামঃ শাওন রাতে যদি
নজরুল গীতি


শাওন–রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে
বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে।।
ভুলিও স্মৃতি মম, নিশীথ–স্বপন সম
আঁচলের গাঁথা মালা ফেলিও পথ ‘পরে।।
ঝুরিবে পূবালি বায় গহন দূর–বনে,
রহিবে চাহি’ তুমি একেলা বাতায়নে।
বিরহী কুহু–কেকা গাহিবে নীপ–শাখে
যমুনা–নদীপারে শুনিবে কে যেন ডাকে।
বিজলী দীপ–শিখা খুঁজিবে তোমায় প্রিয়া
দু’ হাতে ঢেকো আঁখি যদি গো জলে ভরে।।


এই শিকল পরা ছল

শিরোনামঃ এই শিকল পরা ছল
নজরুল গীতি


এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল
এই শিকল পরেই শিকল তোদের কর্‌ব রে বিকল।।


তোদের বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়,
ওরে ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।
এই বাঁধন প’রেই বাঁধন-ভয়কে করবো মোরা জয়,
এই শিকল-বাঁধা পা নয় এ শিকল-ভাঙ্গা কল।।


তোমরা বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে কর্‌ছ বিশ্ব গ্রাস,
আর ত্রাস দেখিয়েই কর্‌বে ভাবছো বিধির শক্তি হ্রাস।।
সেই ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ,
এবার আন্‌বো মাভৈঃ-বিজয়-মন্ত্র বল-হীনের বল।।


তোমরা ভয় দেখিয়ে কর্‌ছ শাসন, জয় দেখিয়ে নয়;
সেই ভয়ের টুটিই ধর্‌ব টিপে, কর্‌ব তারে লয়।
মোরা আপনি ম’রে মরার দেশে আন্‌ব বরাভয়,
মোরা ফাঁসি প’রে আন্‌ব হাসি মৃত্যু-জয়ের ফল।।


ওরে ক্রন্দন নয় বন্ধন এই শিকল-ঝঞ্ঝনা,
এ যে মুক্ত-পথের অগ্রদূতের চরণ বন্দনা!
এই লাঞ্জিতেরাই অত্যাচারকে হান্‌ছে লাঞ্জনা,
মোদের অস্থি দিয়েই জ্বল্‌বে দেশে আবার বজ্রানল।।


কান্ডারী হুঁশিয়ার

শিরোনামঃ কান্ডারী হুঁশিয়ার
নজরুল গীতি


দুর্গম গিরি, কান্তার মরূ, দুস্তর পারাবার
লংঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে যাত্রীরা হুশিয়ার ।


দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ ,
ছিড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যত ।
এ তুফান ভারী ,দিতে হবে পাড়ি , নিতে হবে তরী পার।।


অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ
কান্ডারী ! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন ।
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন জন ?
কান্ডারী ! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র।


ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান ,
আসিয়া অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান
আজি পরীক্ষা , জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ ?
দুলিতেছে তরী , ফুলিতেছে জল ,কান্ডারী হুশিয়ার !


দুর্গম গিরি, কান্তার মরূ, দুস্তর পারাবার
লংঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে যাত্রীরা হুশিয়ার ।


কারার ঐ লৌহকপাট

শিরোনামঃ কারার ঐ লৌহকপাট
নজরুল গীতি


কারার ঐ লৌহকপাট,
ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট,
রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান,
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ
ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।


গাজনের বাজনা বাজা,
কে মালিক, কে সে রাজা,
কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি,
সর্বনাশী শিখায় এ হীন তথ্য কে রে!


ওরে ও পাগলা ভোলা,
দে রে দে প্রলয় দোলা,
গারদগুলা জোরসে ধরে হেচ্‌কা টানে
মার হাঁক হায়দারী হাঁক, কাধে নে দুন্দুভি ঢাক
ডাক ওরে ডাক, মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে।


নাচে ওই কালবোশাখী,
কাটাবী কাল বসে কি
দেরে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি
লাথি মার ভাঙ্গরে তালা,
যত সব বন্দী শালায়-আগুন-জ্বালা, আগুন-জ্বালা,
ফেল উপাড়ি।।


মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম

শিরোনামঃ মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম
নজরুল গীতি


মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম, মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল।
মোরা বিধাতার মত নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মত সচ্ছল।।


আকাশের মত বাঁধাহীন,
মোরা মরু সঞ্চার বেদুঈন,
(মোরা) বন্ধনহীন জন্ম–স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল।।
মোরা সিন্ধু–জোয়ার কল–কল
মোরা পাগলা–ঝোরার ঝরা জল
কল–কল–কল্ ছল–ছল–ছল্ কল–কল–কল্ ছল–ছল–ছল্


মোরা দিল–খোলা খোলা প্রান্তর,
মোরা শক্তি অটল মহীধর
হাসি গান শ্যাম উচ্ছল
মোরা বৃষ্টির জল বনফল খাই, শয্যা শ্যামল বন–তল।।


আলগা করো গো খোপার বাঁধন

শিরোনামঃ আলগা করো গো খোপার বাঁধন
নজরুল গীতি


আলগা করো গো খোপার বাঁধন
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
আলগা করো গো খোপার বাঁধন
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি


বিনোদ বেনির জরিন ফিতায়
বিনোদ বেনির জরিন ফিতায়
আন্ধা ইশক মেরা কাস গায়ি
আন্ধা ইশক মেরা কাস গায়ি
আলগা করো গো খোপার বাঁধন
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি


তোমার কেশের গন্ধে কখন
লুকায় আসিলো লোভী আমার মন
তোমার কেশের গন্ধে কখন
লুকায় আসিলো লোভী আমার মন
বেহুঁশ হো কার গির পারি হাথো ম্যায়
বেহুঁশ হো কার গির পারি হাথো ম্যায়
বাজু বান্ধ ম্যায় বাস গায়ি
বাজু বান্ধ ম্যায় বাস গায়ি
আলগা করো গো খোপার বাঁধন
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি


কানেরও দুলে প্রাণ রাখিলে বিধিয়া
আঁখ ফিরা দিয়া চোরি কার নিন্দিয়া
কানেরও দুলে প্রাণ রাখিলে বিধিয়া
আঁখ ফিরা দিয়া চোরি কার নিন্দিয়া
দেহেরও দেউরীতে বেড়াতে আসিয়া .
দেহেরও দেউরীতে বেড়াতে আসিয়া
অউর নেহি ওহ ওয়াপাস গায়ি
অউর নেহি ওহ ওয়াপাস গায়ি
আলগা করো গো খোপার বাঁধন
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
বিনোদ বেনির জরিন ফিতায়
আন্ধা ইশক মেরা কাস গায়ি
আন্ধা ইশক মেরা কাস গায়ি
আলগা করো গো খোপার বাঁধন
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি
দিল ওহি মেরা ফাস গায়ি


আমি চিরতরে দূরে চলে যাব

শিরোনামঃ আমি চিরতরে দূরে চলে যাব
নজরুল গীতি


আমি চিরতরে দূরে চলে যাব তবু আমারে দেব না ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ বেণী যাবে যবে খুলিতে।।
তোমার সুরের নেশায় যখন
ঝিমাবে আকাশ কাঁদিবে পবন
রোদন হইয়া আসিব তখন তোমার বক্ষে দুলিতে।।
আসিবে তোমার পরমোৎসব – কত প্রিয়জন কে জানে,
মনে প’ড়ে যাবে কোন্‌ সে ভিখারি পায়নি ভিক্ষা এখানে।
তোমার কুঞ্জ-পথে যেতে হায়
চমকি’ থামিয়া যাবে বেদনায়
দেখিবে কে যেন ম’রে মিশে আছে তোমার পথের ধূলিতে।।


আমি যুগে যুগে আসিয়াছি

শিরোনামঃ আমি যুগে যুগে আসিয়াছি/ধূমকেতু
নজরুল গীতি


আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত—সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার—
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ,
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ!


আমি সর্বনাশের ঝাণ্ডা উড়ায়ে বোঁও বোঁও ঘুরি শূন্যে,
আমি বিষ-ধূম-বাণ হানি একা ঘিরে ভগবান-অভিমুন্যে।
শোঁও শন-নন-নন-শন-নন-নন শাঁই শাঁই,
ঘুর্ পাক্ খাই, ধাই পাঁই পাঁই
মম পুচ্ছে জড়ায়ে সৃষ্টি;
করি উল্কা-অশনি-বৃষ্টি,—
আমি একটা বিশ্ব গ্রাসিয়াছি, পারি গ্রাসিতে এখনো ত্রিশটি।
আমি অপঘাত দুর্দৈব রে আমি সৃষ্টির অনাসৃষ্টি!


আমি আপনার বিষ-জ্বালা-মদ-পিয়া মোচড় খাইয়া খাইয়া
জোর বুঁদ হয়ে আমি চলেছি ধাইয়া ভাইয়া!
শুনি মম বিষাক্ত ‘রিরিরিরি’-নাদ
শোনায় দ্বিরেফ-গুঞ্জন সম বিশ্ব-ঘোরার প্রণব-নিনাদ!
ধূর্জটি-শিখ করাল পুচ্ছে
দশ অবতারে বেঁধে ঝ্যাঁটা করে ঘুরাই উচ্চে, ঘুরাই—
আমি অগ্নি-কেতন উড়াই!—


আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!


ঐ বামন বিধি সে আমারে ধরিতে বাড়ায়েছিল রে হাত
মম অগ্নি-দাহনে জ্বলে পুড়ে তাই ঠুঁটো সে জগন্নাথ!
আমি জানি জানি ঐ স্রষ্টার ফাঁকি, সৃষ্টির ঐ চাতুরী,
তাই বিধি ও নিয়মে লাথি মেরে, ঠুকি বিধাতার বুকে হাতুড়ি।
আমি জানি জানি ঐ ভুয়ো ঈশ্বর দিয়ে যা হয়নি হবে তাও!
তাই বিপ্লব আনি বিদ্রোহ করি, নেচে নেচে দিই গোঁফে তাও!
তোর নিযুত নরকে ফুঁ দিয়ে নিবাই, মৃত্যুর মুখে থুথু দি!
আর যে যত রাগে রে তারে তত কাল্-আগুনের কাতুকুতু দি।
মম তূরীয় লোকের তির্যক, গতি তূর্য গাজন বাজায়
মম বিষ নিশ্বাসে মারীভয় হানে অরাজক যত রাজায়!


কচি শিশু-রসনায় ধানি-লঙ্কার পোড়া ঝাল
আর বদ্ধ কারায় গন্ধক ধোঁয়া, এসিড, পটাশ, মোন্ছাল,
আর কাঁচা কলিজায় পচা ঘা’র সম সৃষ্টিরে আমি দাহ করি
আর স্রষ্টারে আমি চুষে খাই।
পেলে বাহান্ন-শও জাহান্নমেও আধা চুমুকে সে শুষে যাই!


আমি যুগে যুগে আসি আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু—
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
আমি শি শি শি প্রলয়-শিশ্ দিয়ে ঘুরি কৃতঘ্নী ঐ বিশ্বমাতার শোকাগ্নি,
আমি ত্রিভুবন তার পোড়ায়ে মারিয়া আমিই করিব মুখাগ্নি!
তাই আমি ঘোর তিক্ত সুখে রে, একপাক ঘুরে বোঁও করে ফের দু’পাক নি!
কৃতঘ্নী আমি কৃতঘ্নী ঐ বিশ্বমাতার শোকাগ্নি!


পঞ্জর মম খর্পরে জ্বলে নিদারুণ যেই বৈশ্বানর—
শোন্ রে মর, শোন্ অমর!—
সে যে তোদের ঐ বিশ্বপিতার চিতা!
এ চিতাগ্নিতে জগদীশ্বর পুড়ে ছাই হবে, হে সৃষ্টি জানো কি তা?
কি বলো? কি বলো? ফের বলো ভাই আমি শয়তান-মিতা!
হো হো ভগবানে আমি পোড়াব বলিয়া জ্বালায়েছি বুকে চিতা!
ছোট শন শন শন ঘর ঘর ঘর সাঁই সাঁই!
ছোট পাঁই পাঁই!
তুই অভিশাপ তুই শয়তান তোর অনন্তকাল পরমাই।
ওরে ভয় নাই তোর মার নাই!!
তুই প্রলয়ঙ্কর ধূমকেতু,
তুই উগ্র ক্ষিপ্ত তেজ-মরীচিকা ন’স্ অমরার ঘুম-সেতু
তুই ভৈরব ভয় ধূমকেতু!
আমি যুগে যুগে আসি আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!


ঐ ঈশ্বর-শির উল্লঙ্ঘিতে আমি আগুনের সিঁড়ি,
আমি বসিব বলিয়া পেতেছে ভবানী ব্রহ্মার বুকে পিঁড়ি!
খ্যাপা মহেশের বিক্ষিপ্ত পিনাক, দেবরাজ-দম্ভোলি
লোকে বলে মোরে, শুনে হাসি আমি আর নাচি বব-বম্ বলি!
এই শিখায় আমার নিযুত ত্রিশূল বাশুলি বজ্র-ছড়ি
ওরে ছড়ানো রয়েছে, কত যায় গড়াগড়ি!
মহা সিংহাসনে সে কাঁপিছে বিশ্ব-সম্রাট নিরবধি,
তার ললাটে তপ্ত অভিশাপ-ছাপ এঁকে দিই আমি যদি!
তাই টিটকিরি দিয়ে হাহা হেসে উঠি,
সে হাসি গুমরি লুটায়ে পড়ে রে তুফান ঝন্ঝা সাইক্লোনে টুটি!


আমি বাজাই আকাশে তালি দিয়া ‘তাতা-উর্-তাক্’
আর সোঁও সোঁও করে প্যাঁচ দিয়ে খাই চিলে-ঘুড়ি সম ঘুরপাক!
মম নিশাস আভাসে অগ্নি-গিরির বুক ফেটে ওঠে ঘুত্কার
আর পুচ্ছে আমার কোটি নাগ-শিশু উদ্গারে বিষ-ফুত্কার!


কাল বাঘিনী যেমন ধরিয়া শিকার
তখনি রক্ত শোষে না রে তার,
দৃষ্টি-সীমায় রাখিয়া তাহারে উগ্রচণ্ড-সুখে
পুচ্ছ সাপটি খেলা করে আর শিকার মরে সে ধুঁকে!
তেমনি করিয়া ভগবানে আমি
দৃষ্টি-সীমায় রাখি দিবাযামী
ঘিরিয়া ঘিরিয়া খেলিতেছি খেলা, হাসি পিশাচের হাসি
এই অগ্নি-বাঘিনী আমি যে সর্বনাশী!


আজ রক্ত-মাতাল উল্লাসে মাতি রে—
মম পুচ্ছে ঠিকরে দশগুণ ভাতি,
রক্ত রুদ্র উল্লাসে মাতি রে!
ভগবান? সে তো হাতের শিকার!— মুখে ফেনা উঠে মরে!
ভয়ে কাঁপিছে, কখন পড়ি গিয়া তার আহত বুকের পরে!
অথবা যেন রে অসহায় এক শিশুরে ঘিরিয়া
অজগর কাল-কেউটে সে কোনো ফিরিয়া ফিরিয়া
চায়, আর ঘোরে শন্ শন্ শন্,
ভয়-বিহ্বল শিশু তার মাঝে কাঁপে রে যেমন—
তেমনি করিয়া ভগবানে ঘিরে
ধূমকেতু-কালনাগ অভিশাপ ছুটে চলেছি রে;
আর সাপে-ঘেরা অসহায় শিশু সম
বিধাতা তাদের কাঁপিছে রুদ্র ঘূর্ণির মাঝে মম!


আজিও ব্যথিত সৃষ্টির বুকে ভগবান কাঁদে ত্রাসে,
স্রষ্টার চেয়ে সৃষ্টি পাছে বা বড় হয়ে তারে গ্রাসে!


চল্‌ চল্ চল্

শিরোনামঃ চল্‌ চল্ চল্
নজরুল গীতি


চল্‌ চল্ চল্
ঊর্দ্ধ গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী তল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্‌ রে চল্‌ রে চল্‌
চল্‌ চল্ চল্ ।।


ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটিব তিমির রাত
বাঁধার বিন্ধ্যা চল।।


নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশশ্মান,
আমরা দানিব নতুন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল।।


চলরে নওজোয়ান,
শোনরে পাতিয়া কান
মৃত্যু তোরণ দুয়ারে দুয়ারে
জীবনের আহ্বান
ভাঙ্গরে ভাঙ্গ আগল
চল্‌ রে চল্‌ রে চল্‌
চল্‌ চল্ চল্।।


আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়

শিরোনামঃ আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়
নজরুল গীতি


আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়
মনে পড়ে মোরে প্রিয়
চাঁদ হয়ে রব আকাশের গায়
বাতায়ন খুলে দিয়ো


সেথা জোছনার আলোর কণিকা
যেন সে তোমার প্রেমের মণিকা


কলংক সাথে জড়ায়ে রয়েছে
প্রেমের কলংক সাথে জড়ায়ে রয়েছে
আঁখি ভরে নীড় প্রিয়
চাঁদ হয়ে রব আকাশের গায়
বাতায়ন খুলে দিয়ো


ভুলি নাই প্রিয় ভুলি নাই
খুলি নাই রাঙ্গা রাখি
মুছি নাই প্রেম চন্দন লেখা
দিয়েছ যা ললাটে আঁকি
ভুলি নাই প্রিয় ভুলি নাই


চৈত্র দিনের অলস বেলায়
যদি গানখানি মোর
মনে পড়ে হায়


ঝরানো পাতার মর্মর গানে
সেই সুরভিতে শুনিও
চাঁদ হয়ে রব আকাশের গায়
বাতায়ন খুলে দিয়ো


New Post

Mele chaliyan

Mele chaliyan te leke aave chudiyan - 2 vich bava vich hon channa puriyan - 2 hoye ke leja mera guth milke - 2 Ho mele chaliy...

Popular Posts